সন্দ্বীপ প্রতিনিধি, ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক:
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গৃহকর্মী আফরিনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এক নতুন মোড় এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম জোরদার হতেই অভিযুক্ত সাখওয়াতের পুরো পরিবার নিজেদের বসতবাড়িতে তালা লাগিয়ে আত্মগোপন করেছে।
সন্দ্বীপের স্থানীয় সূত্র ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গতকাল সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তফা কামাল পাশা নিহতের ভাইয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার বিবরণ শোনেন। এরই প্রেক্ষিতে আজ সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
প্রশাসনের এই তৎপরতার পরপরই আজ বিকেলে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের একটি দল নিয়ে নিহত আফরিনের পরিবারের সাথে কথা বলতে যান। তাঁদের বক্তব্য গ্রহণের পর ওসির নেতৃত্বে পুলিশ দলটি ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে আফরিনের কর্মস্থল—অর্থাৎ সাখওয়াতের বাড়িতে পরিদর্শনে যান।
তবে পুলিশ প্রশাসন সেখানে পৌঁছানোর আগেই এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাখওয়াতের ঘরের প্রধান ও পেছনের প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ইউএনও এবং ওসির আকস্মিক পদক্ষেপের খবর পেয়ে আইনি প্রক্রিয়া এড়াতেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুরো পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত পরিবারের এই আকস্মিক পলায়ন স্থানীয় জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে এখন জোর গুঞ্জন চলছে—ঘটনার পেছনে যদি কোনো অপরাধ না-ই থাকবে, তবে আইনি তদন্তের মুখোমুখি না হয়ে এভাবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ কী? এই ঘটনাটি আফরিনের মৃত্যুকে ঘিরে থাকা রহস্যের তীরকে সাখওয়াতের পরিবারের দিকে আরও দৃঢ়ভাবে নির্দেশ করছে।
সন্দ্বীপ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
0 মন্তব্যসমূহ