স্থানীয় নির্বাচন ২০২৬: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

 

ডেস্ক রিপোর্ট, এন টি এন বাংলাদেশ (ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক) | প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের একটি বিশেষ সুযোগ দিয়েছে। আপনি যদি আপনার বর্তমান আবাসন বা স্থায়ী ঠিকানার পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চান, তবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (এন টি এন বাংলাদেশ)-এর পাঠকদের জন্য ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রক্রিয়া নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন কেন জরুরি?
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (যেমন: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন) ভোট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক। আপনি যদি বর্তমানে এক এলাকায় বসবাস করেন কিন্তু ভোটার অন্য এলাকার হয়ে থাকেন, তবে আপনি আপনার বর্তমান আবাসন এলাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। তাই স্থানীয় নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে দ্রুত ভোটার এলাকা স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
আবেদনের শেষ সময়সীমা
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রমাণাদিসহ আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য মূলত দুইভাবে আবেদন করা যায়: অনলাইন এবং সরাসরি উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে।
১. অনলাইন প্রক্রিয়া:
  • প্রথমে নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (services.nidw.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে।
  • আপনার এনআইডি (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অ্যাকাউন্ট লগইন করুন।
  • 'মাই প্রোফাইল' অপশনে গিয়ে 'ঠিকানা পরিবর্তন' বা 'ভোটার এলাকা স্থানান্তর' অপশনটি নির্বাচন করুন।
  • বর্তমান ও কাঙ্ক্ষিত নতুন ঠিকানার তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করে সাবমিট করুন।
২. সরাসরি বা অফলাইন প্রক্রিয়া:

  • আপনার বর্তমান এলাকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে 'ফরম-১৩' (ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন ফরম) সংগ্রহ করুন।
  • ফরমটি নির্ভুলভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন।
  • এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি জমা দিন।
  • আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?
  • আবেদন সফলভাবে গৃহীত হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত প্রমাণপত্রগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক কপি জমা দিতে হবে:
    • নাগরিকত্ব সনদ: নতুন এলাকার সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট।
    • ইউটিলিটি বিলের কপি: নতুন ঠিকানার বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিলের কপি (যা প্রমাণ করে আপনি সেখানে বসবাস করছেন)।
    • বাড়ি ভাড়ার রসিদ বা চুক্তিপত্র: আপনি যদি ভাড়াটিয়া হন, তবে বাড়ি ভাড়ার চুক্তিনামা বা সাম্প্রতিক মাসের ভাড়ার রসিদ।
    • জমির দলিল বা খাজনা রসিদ: নিজের বাড়ি বা জমি হলে তার মালিকানার প্রমাণপত্র।
    এন টি এন বাংলাদেশ-এর বিশেষ পরামর্শ
    শেষ মুহূর্তের ভিড় এবং সার্ভার জটিলতা এড়াতে ৭ সেপ্টেম্বরের জন্য অপেক্ষা না করে আজই আপনার আবেদনটি সম্পন্ন করুন। ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে, তাই ফরম পূরণের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন।
    স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতি সংক্রান্ত যেকোনো ব্রেকিং নিউজ এবং নির্ভরযোগ্য আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (এন টি এন বাংলাদেশ)-এর পর্দায় এবং অফিশিয়াল অনলাইন পোর্টালে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ