২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চলাকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছিলেন আন্দোলনের অন্যতম দুই শীর্ষ মুখ সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। এই ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান সমন্বয়ক ও বর্তমান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে সারজিস আলমকে আন্দোলন থেকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছিলেন।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই বিস্ফোরক দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
তার ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে প্রাপ্ত মূল তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
• ১৯ জুলাইয়ের সেই গোপন বৈঠক: রাশেদ খাঁন জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যখন দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার ওপর তীব্র দমনপীড়ন চলছিল এবং বহু মানুষ শহীদ হচ্ছিলেন, ঠিক সেই রাতে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ গোপনে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
• আন্দোলন ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা: তিনি অভিযোগ করেন, মাঠের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের ঘোষিত ৯ দফা দাবিকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে তারা সরকারের সাথে আলোচনা করে একটি ৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।
• অন্যদের যুক্ত করার চেষ্টা: স্ট্যাটাসের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের সঙ্গে সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য হাসনাত আবদুল্লাহ আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামকে ফোন করে মেস থেকে ডেকে নিয়েছিলেন। এ ছাড়া আরও অনেককে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করে বাকিরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
• নাহিদের কঠোর অবস্থান: রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, এই গোপন বৈঠকের খবর জানার পর নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেন। তিনি তৎক্ষণাৎ সারজিস আলমকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বহিষ্কার করেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে জবাব চেয়ে শোকজ করেন।
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারজিস ও হাসনাতের এই ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খাঁন।

0 মন্তব্যসমূহ