বরিশালে প্রবাসীর জমি দখল ও ভূমি রেকর্ড পরিবর্তনের অভিযোগ: নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি

 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে, মাদ্রাসা কলোনির পেছনে সিঙ্গারা পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় মালিকানাধীন জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভূমি রেকর্ড পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি সৈয়দ মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (মিরাজ)। তিনি গত প্রায় ৩২ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং বৈধ উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে পরিবার ও দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।


ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে উক্ত জমি নিয়ে তিনি দখল ও মালিকানা-সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন এবং ২০১৮ সালে জমিটি জোরপূর্বক দখল করা হয়। এ বিষয়ে তিনি ২০১৮ ও ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ ও প্রতিকারের আবেদন করেছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সরকারি নথিতেও ওই সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।


এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেছেন, আরএস ও এসএ খতিয়ানের পূর্ববর্তী মালিকানার তথ্যের বিপরীতে বিএস জরিপের সময় ভূমি রেকর্ডে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং পূর্বের নাম পরিবর্তন করে অন্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডিবি বুক ও সংশ্লিষ্ট জরিপ রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। তার কাছে আরএস, এসএ ও বিএস খতিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


প্রবাসী এই বাংলাদেশি জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে বৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠালেও এই জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিজের জমিতে পরিবারের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণও করতে পারেননি তিনি। একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি বৈধ সম্পত্তির অধিকার ও ন্যায়বিচার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।


এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়ে থাকে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অপরদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।


উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ ও প্রতিকারের আবেদন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই পারে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির ন্যায়বিচার ও বৈধ সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে।


— তদন্ত চলমান।

মূল দোষী: সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড পরিবর্তনকারী ও অবৈধ দখলদার পক্ষ (অভিযোগ সাপেক্ষে)।

সৈয়দ মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (মিরাজ) একজন প্রবাসী বাংলাদেশি; তার দাবি ও অভিযোগ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ