৫ বছরের হোসাইনের আহাজারিতে রাজবাড়ীতে শোকের ছায়া,মায়ের কবর আকড়ে কান্না।

 


নিজস্ব প্রতিবেদক, এনটিএন বাংলাদেশরাজবাড়ী: মায়ের কবর ছেড়ে কোনোভাবেই বাড়ি ফিরতে চায় না পাঁচ বছরের শিশু হোসাইন। নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকে মাটির ঢিবির দিকে। তার অবুঝ মন এখনো হয়তো বিশ্বাস করে, মা এই মাটির নিচ থেকেই হঠাৎ উঠে এসে তাকে কোলে তুলে নেবেন। রাজবাড়ীর সুলতানপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জুট মিল কর্মী পান্না খাতুনের কবরের পাশে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য, যা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও।স্বপ্ন ছিল ছেলেকে মানুষ করারপারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তান হোসাইনকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন পান্না খাতুন। তবে দমে যাননি তিনি। বৃদ্ধ মা আর প্রতিবন্ধী বোনের ভরণপোষণের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। সংসারের চাকা সচল রাখতে যোগ দেন স্থানীয় একটি জুট মিলের শ্রমিক হিসেবে। অল্প আয়ে নিজের কষ্ট হলেও স্বপ্ন দেখতেন ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার।এক নিমিষেই চুরমার একটি পরিবারগত ৩০ জুন কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পান্না খাতুন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে নিমিষেই অন্ধকার নেমে এসেছে পুরো পরিবারটিতে। উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষকে হারিয়ে এখন দিশেহারা বৃদ্ধা মা ও তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়ে। আর পাঁচ বছরের অবুজ হোসাইন হারিয়ে ফেলেছে তার আশ্রয়, তার পুরো পৃথিবী।পাশে দাঁড়ানোর আকুতিস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পান্না খাতুনের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছে। ঘরে নেই কোনো আয়ের উৎস, তার ওপর ছোট্ট শিশুর ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। মানবিক দিক বিবেচনা করে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আপনাদের সামান্য সহানুভূতি ও সহযোগিতা বেঁচে থাকার নতুন আলো দেখাতে পারে এক বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী বোন আর এতিম শিশু হোসাইনকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ