খাগড়াছড়িতে ধরা পড়লেন নিখোঁজ সেই নববধূ।স্বামীকে অপছন্দ হওয়ায় চুল কেটে ছেলের বেশ।


 নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:সংসার জীবনের শুরুতেই যদি অমিল দেখা দেয়, তবে অনেকে ভিন্ন পথ বেছে নেন। কিন্তু নিজের পরিচয় পুরোপুরি আড়াল করতে এক নববধূর নেওয়া কৌশল সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে। বিয়ের পর স্বামীকে পছন্দ না হওয়ায় নিজের বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন এক তরুণী। তবে সাধারণ পোশাকে নয়, ছদ্মবেশ ধারণ করতে কেটে ফেলেন নিজের মাথার লম্বা চুল। গায়ে জড়ান শার্ট-প্যান্ট। চাল-চলন, পোশাক আর ছোট চুলে তাকে দেখে চেনার উপায় ছিল না যে তিনি একজন নারী।খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ছদ্মবেশী এই তরুণীর রহস্যময় ঘোরাফেরা শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে, যা উন্মোচন করে এক চাঞ্চল্যকর সত্য।

ছেলের বেশে মানিকছড়ির অলিতে-গলিতে রহস্যময় উপস্থিতিআঞ্চলিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক তরুণকে অদ্ভুতভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার কথাবার্তা এবং আচরণের মধ্যে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করায় স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মানিকছড়ি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ছদ্মবেশী তরুণকে নিজেদের হেফাজতে নেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এলো আসল ‘বৃষ্টি’থানায় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। শার্ট-প্যান্ট পরা সেই তরুণ আর কেউ নন, তিনি আসলে 'বৃষ্টি' নামের এক নিখোঁজ নববধূ। [1] পুলিশি তদন্তে জানা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার এক চাকরিজীবীর সাথে সম্প্রতি তার ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়া এবং তাকে পছন্দ না করার কারণে মনে মনে ঘর ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি।পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে তিনি সুযোগ বুঝে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন এবং নিজের চেনা রূপ বদলে পুরোপুরি ছেলেদের অবয়ব ধারণ করেন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় ও আইনি প্রক্রিয়াপারিবারিক অমিল ও বৈবাহিক জীবনের অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে একজন নারীর এমন চরম ছদ্মবেশ ধারণের ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুরো পার্বত্য অঞ্চলসহ নেটদুনিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। [1] অনেকে এই তরুণীর এমন দুঃসাহসিক ও অভিনব কৌশলের পেছনে অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।মানিকছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবার ও স্বামীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক চাপ বা রহস্য লুকিয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ