পটুয়াখালীতে দুই মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিপটুয়াখালী প্রতিনিধি:পটুয়াখালী সদর উপজেলায় নিজ দুই কন্যা সন্তানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে জাহাঙ্গীর হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মেজো মেয়ে ফাতিমা (ছদ্মনাম) তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তাদের মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কর্মরত থাকায় সন্তানরা বাড়িতে বাবার কাছেই থাকত। অভিযোগ উঠেছে, মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত বাবা দীর্ঘদিন ধরে বড় মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। লোকলজ্জা ও পারিবারিক সম্মানের ভয়ে বড় মেয়ে একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় মায়ের কাছে চলে যেতে বাধ্য হয়।বড় মেয়ে ঢাকা চলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হাওলাদারের কুদৃষ্টি পড়ে মেজো মেয়ে ফাতিমার ওপর। গত রাতে সে মেজো মেয়েকে জোরপূর্বক হেনস্থা ও শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশেপাশের মানুষজন টের পেয়ে গেলে সে যাত্রায় রক্ষা পায় সে।পরদিন সকালে ফাতিমা পুরো বিষয়টি মুঠোফোনে তার মাকে বিস্তারিত জানায়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সন্তানদের মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেজো মেয়ে ফাতিমা সংবাদমাধ্যমকে জানায়, "আমি আমার বাবার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এমন বিচার হোক, যেন আর কোনো বাবা তার সন্তানের সাথে এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। আমি নিজে আমার বড় বোনের সাথে ওনার আপত্তিকর আচরণ দেখেছি। বাধা দিতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। লোকলজ্জার ভয়ে সমাজ প্রথমে আমাদের কথা শোনেনি। বাবার আশ্রয়েই মেয়েরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, কিন্তু যেখানে বাবাই অপরাধী, সেখানে আমরা কোথায় যাব? ওনার কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।"পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ