ডেস্ক রিপোর্ট, ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক:প্রবল বর্ষণ আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে মাত্র ১৫ মিনিট দেরি। আর এই সামান্য বিলম্বের কারণেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীর সেমিস্টার পরীক্ষা দেওয়া হলো না। নিয়মের বেড়াজালে আটকে অবসান ঘটলো এক বুক স্বপ্নের।হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে নাটোর জেলায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আবু সুফিয়ান হোসেন শাওন। তিনি স্থানীয় টিএমএসএস পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের টেক্সটাইল বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী।ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, আবু সুফিয়ানের পারিবারিক জীবন চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার বাবা ইতিমধ্যে মারা গেছেন এবং মা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য এই শিক্ষার্থীর নেই। এলাকার চাচা-চাচি, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের যৌথ আর্থিক সহায়তায় কোনো রকমে তার পড়াশোনার খরচ চলে আসছিল।ঘটনার দিন নাটোরে সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সুফিয়ান। সমস্ত বাধা পেরিয়ে যখন তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান, ততক্ষণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৫ মিনিট পার হয়ে গেছে। কেন্দ্রে উপস্থিত শিক্ষকরা তাকে নিয়মের অজুহাতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে বাধা দেন। সুফিয়ান নিজের পারিবারিক অসহায়ত্ব, আর্থিক অনটন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষকদের বারবার অনুরোধ করলেও দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, "পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এই সেমিস্টারে যদি আমার কোনো বিষয়ে ড্রপ বা রেফার আসে, তবে দ্বিতীয়বার একই সেমিস্টারে থেকে পড়ালেখা চালানো আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি জেলা প্রশাসন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে আকুল আবেদন জানাই, যেন আমার পরিস্থিতি মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে এই পরীক্ষাটি পুনরায় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
যা বলছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ:পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে টিএমএসএস পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষকের (অধ্যক্ষ) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। প্রধান শিক্ষক জানান, সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের কড়াকড়ির কারণেই সময় পার হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীকে হলে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।তবে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। প্রধান শিক্ষক ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক-কে নিশ্চিত করেন যে, এই একটি পরীক্ষা দিতে না পারার কারণে সুফিয়ানের কোনো 'সেমিস্টার লস' হবে না। সে পরবর্তী সেমিস্টারে এই পরীক্ষাটি 'রেফার্ড পরীক্ষা' হিসেবে দেওয়ার সুযোগ পাবে। এর জন্য তাকে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য নতুন করে ফরম ফিলাপ করতে হবে।শিক্ষার্থীর আর্থিক সংকটের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, "তার আর্থিক অবস্থা যদি সত্যিই অসচ্ছল হয়ে থাকে, তবে আগামীতে ফরম ফিলাপসহ প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো খরচের ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ মানবিক বিবেচনা রাখবে এবং তাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।"স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলের নিয়মকানুন বজায় রাখা জরুরি হলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি কিছুটা নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। অসহায় আবু সুফিয়ানের শিক্ষা জীবন সচল রাখতে প্রশাসন কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

0 মন্তব্যসমূহ