
ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ডেস্ক:রাজধানীর শাহবাগের ব্যস্ত ফুটপাতে বসে পরম মমতায় ফুলের মালা গাঁথছেন এক মা। সুঁই-সুতার প্রতিটি ফোঁড়ে যেন জড়িয়ে আছে তার মেয়ের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। ফুটপাতে মালা বিক্রি করে অর্জিত এই সামান্য আয় দিয়েই তিনি তার মেয়েকে পড়াচ্ছেন প্যারামেডিকেলে। চরম দারিদ্র্য আর জীবনসংগ্রামের এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মা অঞ্জু রানী।ন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের অনুসন্ধানে জানা যায়, অঞ্জু রানী একসময় পিজি হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (এমএলএসএস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে করোনা মহামারীর নিষ্ঠুর থাবায় চাকরিটি হারিয়ে বসেন তিনি। সংকটের এখানেই শেষ নয়; চাকরি হারানোর কিছুদিন পর তার স্বামীও স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে রেখে চলে যান। হঠাৎ এমন অকূল পাথারে পড়েও দমে যাননি এই লড়াকু নারী। শাহবাগ ফুলের বাজারের পাশে ফুটপাতে বসে সুঁই-সুতা আর ফুলের মালা বিক্রি শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে প্রতিদিন যা আয় হয়, তা দিয়ে কখনো একবেলা, আবার কখনো দুবেলা খেয়েই দিন পার করেন। কিন্তু নিজের কষ্টকে আড়াল করে সেই সামান্য টাকা থেকেই মেয়ের পড়াশোনার খরচ, খাতা-কলম, বই আর হাতখরচের অর্থ জমিয়ে রাখেন তিনি।তার মেয়ে সেতু হাওলাদার শৈশবের দীর্ঘ ১০ বছর একটি হোমে থেকে পড়াশোনা করেছেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাইসহ নানা স্বাবলম্বী কাজও শিখেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্যারামেডিকেলের শিক্ষার্থী। মায়ের এই অসীম ত্যাগের কথা বলতে গিয়ে সেতু জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেকেই তার মাকে দ্বিতীয়বার সংসার পাতার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু মা অঞ্জু রানী নিজের সুখের কথা চিন্তা না করে, কেবল মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে একা লড়াইয়ের পথ বেছে নেন। সেতু আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এখন তার একমাত্র চাওয়া—কেউ যদি তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থাটুকু করে দিতেন, তবে বাকি পথ তিনি নিজের যোগ্যতায় সামলে নিতে পারতেন।শত দারিদ্র্য, শারীরিক অসুস্থতা আর সামাজিক প্রতিকূলতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে অঞ্জু রানীর জীবনের এখন একটাই স্বপ্ন—মেয়ে একদিন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। শাহবাগের ফুটপাতে বসে ফুলের মালা হাতে এই সংগ্রামী মা আজও প্রতিদিন তার মেয়ের এক গৌরবময় আগামীর স্বপ্ন বুনে চলেছেন।
0 মন্তব্যসমূহ